বিভাগহহীন · ভিজিট ভিসা

ক্যারিয়ার ইন USA (এক ডজন টিপস)

 


আমরা সবাই রকেটের মতো। পশ্চাদ দেশে আগুন না লাগলে, আমরা নড়তে চড়তে চাই না। আমেরিকায় এসে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে, এই জায়গামতো আগুন লাগে, প্রফেসর মুখ কালা করে যখন বলে, সরি, নেক্সট সেমিস্টার থেকে, তোমার ফান্ড নট হয়ে গেছে। এখন, আপনি চোখে আন্ধা দেখেন। কেম্নে এপ্লাই করতে হয়, কার কাছে যাইতে হয় কিচ্ছু জানেন না। resume কেম্নে বানাতে হয় আপনি জানেন না। ক্যারিয়ার সেন্টারে ফোন দিছেন, নেক্সট দুইসপ্তাহে কোনো স্লট খালি নাই। লাও ঠেলা।

অথচ, পশ্চাদে আগুন লাগার জন্য অপেক্ষা করে, ক্যান্ডি ক্র্যাশ না খেলে, আপনি ভুল করে হইলেও, ক্যাম্পাসে যে ক্যারিয়ার ফেয়ার হইছিলো সেখানে একটু টু মারতে পারতেন, এটলিস্ট দুই চারজনের সাথে কথা বল্লে, প্রফেশনাল ইংরেজি শিখতে পারতেন। কাহিনী হচ্ছে, কম্পানির লোক যখন দরকার, তখন তারা হায়ার করবে, আপনার যখন ফান্ড চলে যাবে বা ডিফেন্স দেয়ার সময় হবে তখন নয়। কয়দিন পরে যার ক্যাম্পাসে ক্যারিয়ার ফেয়ার হবে, সেখানে ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখে, দর্কার হইলে ভাতের সাথে মেখে খেয়ে যাইতে হবে। আর বড় বা মাঝারি সাইজের কোম্পানীগুলো সামনের বছরের সামারের (মে, ২০১৫) ইন্টার্ন বা ওই সময়ের জন্য ফুল টাইম কিন্তু এই বছর সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে ঠিক করে ফেলবে। দেখেন, তারা এক বছর আগে লোক খুজা শুরু করে। আর আপনি দেড় দিনে চাকরি পেতে চান!!! সুতরাং আপনি যদি সামারে ইন্টার্ন বা তখন থেকে ফুল টাইম করতে চান, এখনই আপনাকে সচেষ্ট হতে হবে।


১. বাংলাদেশে যেই CV ব্যবহার করছেন। সেটা ফালায় দেন। নতুন করে resume বানান। ক্যারিয়ার ফেয়ারের আগের রাতে resume বানাতে বসলে, ক্যারিয়ার ফেয়ারে যাওয়ার দরকার নাই। ভুড়ির মধ্যে তেল মাখেন, আপনার ওয়ান প্যাক, ফুটবল প্যাক হয়ে যাবে। সব ইউনিভার্সিটিতে career center থাকে। সেখানে resume এর দুই/তিনটা টেম্পলেট থাকে। ঐটা হুবহু কপি কইরেন না। কারণ আপনার মতো অনেক ফাঁকিবাজ আছে যারা ডাইরেক্ট কপি মারবে। কমপক্ষে ১ মাস আগে আপনার resume ৪ বার ক্যারিয়ার সেন্টারে ফ্রি রিভিউ করান। ওরা কারেকশন দিবে। আপনি ঠিক করে, আবার দেখান। একজন কোনো ভুল না পাইলে বা আর কোনো সাজেশন না দিলে। অন্য আরেকজনরে দেখান। কোন সিনিয়রকে দেখান। ভুলেও, ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাত্র ২ সপ্তাহ বাকি আছে এমন সমযে টনক নড়লে লাভ নাই। তখনি মাক্সিমাম রকেটের টনক নড়ে। তাই চাইলেও ক্যারিয়ার সেন্টারে এপয়েন্টমেন্ট পাবেন না। আর ভাগ্য বেশি ভালো হইলে হয়তো একটা পাবেন। কিন্তু ঠিক করে পুনরায় দেখাতে পারবেন না।


২. ক্যারিয়ার সেন্টারে মক ইন্টারভিউ নেয়। সেটার উপর ভিত্তি করে ওরা ফিডব্যাক দেয়। আপনি চাইলে কোনো একটা নিদৃষ্ট জবের জন্য মক ইন্টারভিউ দিতে পারেন। একটা প্রাকটিস হয়ে যাবে। এবং ওরা ফিডব্যাক দিবে। আসল জবের ইন্টারভিউতে ফিডব্যাক দিবে না। ম্যাক্সিমাম জায়গায় একবার রিজেক্ট খাইলে, কমপক্ষে এক বছরে আর ডাকবে না। আমার একটা চাল্লু ফ্রেন্ড আছে, সে মাইক্রোসফটে চাকরি করতে চায়। আমরা যখন ফার্স্ট ইন্টারভিউ দেই, সে দেয় নাই। সে ছোটখাটো গুলাতে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রাকটিস করে, আসল টার্গেটে লাস্টে ইন্টারভিউ দিয়ে, জব বাগায় ফেলছে। আর এই আমি এই পর্যন্ত চার বার ইন্টারভিউ দিছি। so, cut your জামা according to your রুমাল।


৩. ক্যারিয়ার ফেয়ারের এক সপ্তাহ আগে থেকেই, যারা আগের বছর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হায়ার করছে তাদের একটা লিস্ট বানান। যারা ডিপার্টমেন্ট এ সিনিয়ার আছে, তাদের কাছ থেকে, ভারতীয় বা চৈনিক পোলাপানের কাছে অনেক তথ্য থাকে। তাদের দেশের সিনিয়ররা কি জব করে বা কেম্নে পাইছে, সেই খবর রাখে। কারণ যারা ইন্টারন্যাশনাল হায়ার করে না, ওদের কাছে ইন্টারভিউ দিয়ে, খালি টাইম নষ্ট। এই লিস্টটা আবার চান্স বা পছন্দ অনুযায়ী সিরিয়াল করেন। কোনটায় আগে যাবেন, কোনটায় পরে। এবং পারলে আপনার পছন্দের ৫/৬ টা জবের জন্য কাস্টমাইজ resume বানান। ওদের জব ডেসক্রিপশন দেখে, ওদের ওয়েবসাইট ঘেটে, ওদের সম্পর্কে জানেন। এবং ওই বিষয়ে ওদের সাথে গ্বল্প করেন। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো বাংলাদেশী, বা ডিপার্টমেন্ট এর সিনিয়র কেউ যদি ঐখানে জব করে তার কাছ থেকে কিছু টিপস নিতে পারলে।


৪. glassdoor.com নামে একখান সাইট আছে। যেকোনো কোম্পানি ইন্টারভিউতে কি কি প্রশ্ন করে। সেলারি কেমন দেয়। এই রকম প্রচুর তথ্য থাকে। আর আপনি যদি প্রোগ্রামিং এর চাকরি খুজতে থাকেন তাইলে, careercup.com সাইটে হাজার হাজার ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন আছে। মন চাইলে বই কিনে প্রোগ্রামিং ইন্টারভিউ এর প্রিপারেশন নিতে পারেন। যেমন, Cracking the coding interview.


৫. আর আপনার ফকিরা মার্কা linkedin প্রোফাইল টারে একটু মানুষ করেন। কি লিখবেন, কিভাবে লিখবেন বুঝতে পারতেছেন না। আপনার একই ফিল্ডের লোকজনের প্রোফাইল খুঁজে বের করে ফেলেন। এক-এক জনের প্রোফাইল থেকে একটু একটু করে নিলে, আপনার প্রোফাইল একটু যুতসই হতে পারে। আরেকজনের প্রোফাইল এর স্টাইল কপি করতে বেশি লজ্জা না পাইলেও চলবে। কারণ একজনেরটা হুবহু কপি মারলে, তারে বলে চুরি। আর দশ জনের প্রোফাইল থেকে কপি মারলে, তারে বলে রিসার্চ।


৬. অবশ্যই ক্যরিয়ার ফেয়ার হোক বা জব ইন্টারভিউ হোক, যখন শুরু হবে তার ১৫ মিনিট আগে গিয়ে হাজির হবেন। ধরেন, আপনি অনেক দূরে নতুন কোনো এক জায়গায় যাবেন ইন্টারভিউ দিতে। আপনি রাস্তার মধ্যে হাইওয়ে তে ভুল এক্সিট নিতেই পারেন। তাই ১৫ মিনিট আগে পৌছানোর টার্গেট ভুলেও নিবেন না। বরং ১ বা দেড় ঘন্টা আগে, যেই জায়গায় ইন্টারভিউ তার এক দেড় মাইলের মধ্যে কোনো ম্যাকডোনাল্ড বা মাঝারি মানের রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে অপেক্ষা করেন। ৩০ মিনিট আগে রওয়ানা দেন। যাতে পার্কিং এর জায়গা খুঁজে ঠিক সময়ে পৌঁছতে পারেন। এইটা করবেন সিটির বাইরে ইন্টারভিউ হলে। আর সিটির মধ্যে হলে, আগে পার্ক করে তারপর রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করতে বসতে হবে। কারণ পার্ক করতে ৩০/৪০ মিনিট লেগে যেতে পারে। পারলে ট্রেনে চলে যান। আর কোন কারণে দেরী হবার সম্ভাবনা থাকলে, আগেই ওদের ফোন করে দেন, যে কতক্ষণ দেরী হতে পারে।

Extra: আর যদি দুরের কোন শহরে হয়। তাইলে আগের দিন চলে যান। সব শহরেই বুয়েটের বা বাংলাদেশী কেউ না কেউ থাকে, আগে থেকে খোজ নিলে পাওয়া যায়। আর না হয় সস্তা কোন হোটেল বা মোটেল ভাড়া নিতে পারেন। আর দরকার হইলে আগের দিন ওই অফিস কোথায় দেখে আসলেন। ক্ষতি কি? ১০ ঘন্টা ড্রাইভ করে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন না। একেতো টায়ার্ড, মুখে দিয়ে কথা বের হবে না। আর ফিরার পথে ঝিমায় ঝিমায় ড্রাইভ করবেন না। your life would be at risk.

৭. পারলে ব্লেজার, টাই সহ প্রফেশনাল ড্রেস পরে যান। টি শার্ট বা ছেড়া ফাটা জিন্স পরে যাবার দরকার নাই। বা শার্ট লন্ড্রি করা হইছে কিন্তু আয়রন করা হয় নাই। কেমন জানি ফানি লাগে দেখতে সেটা করার দরকার নাই। কনফিউশন থাকলে, অন সাইট ইন্টারভিউ এর আগে, ওদের HR কে জিগ্যেস করেন, ওদের অফিসিয়াল ড্রেস কোড আছে কিনা। আপনি ওভার ড্রেস করলে সমস্যা নাই কিন্তু বাজে ড্রেস পরলে সেটা নেগেটিভ। আমি একটা জবে জিন্স এবং টি শার্ট পরে ইন্টারভিউ দিছিলাম এবং জব ও পাইছিলাম। কিন্তু আগে জিগ্যেস করে নিছি, ড্রেস কোড আছে কিনা। ওরা বলছে, তুমি যা খুশি পরতে পারো। আর সবসময় একটা প্রফেশনাল ইমেইল এড্রেস দিবেন। jhankar.mahbub@gmail.com বা এইটা যদি না থাকে jhankar.mahbub23@gmail.com টাইপের দিবেন। ভুলেও yoyoBro@gmail.com বা carazy4tumi@hotmail.com টাইপের ইমেল এড্রেস দিবেন না।


৮. ক্যাম্পাসে ক্যারিয়ার ফেয়ার হবার পর আপনাকে, ফোন ইন্টারভিউ দিতে হতে পারে। তারপরে ভালো লাগলে অন-সাইটে ডাকবে। ফোন বা অন-সাইট ইন্টারভিউ এর টিপস আরেকদিন লিখবো। এই সব প্রসেসিং করতেই অনেক সময় এক দেড় মাস লেগে যায়। অনেক সময় তিন /চার মাস আর রিসার্চ টাইপের বা ফ্যাকাল্টি জবের জন্য ছয় থেকে নয় মাসও লেগে যেতে পারে। তারপরে যদি আপনার ইন্টার্ন হয় তাইলে আপনাকে, CPT (curricular practical training) হিসেবে কাজ করতে হবে। CPT পাইতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৯ মাস স্টুডেন্ট হিসেবে মার্কিন মুল্লুকে থাকতে হবে। ইন্টার্ন বা জব আপনি যেই সাবজেক্টে পড়তেছে, সেই রিলেটেড ফিল্ডে হতে হবে। এবং সাধারনত আপনার এডভাইজার এপ্রুভ করতে হবে। CPT আপনি সর্বোচ্চ ১১ মাসের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও আপনাকে ১২ মাসের জন্য অনুমতি দিবে। কিন্তু পুরো ১২ মাস ব্যবহার করে ফেল্লে আপনি পরবর্তী ধাপে OPT (optional practical training) পাবেন না। তাই সাবধান। আর ডিগ্রী কমপ্লিট হয়ে গেলে বা ডিফেন্স দিয়ে দিলে CPT আর পাবেন না। আপনাকে OPT এর জন্য এপ্লাই করতে হবে।


৯. আর প্রত্যেক লেভেলের ডিগ্রীর জন্য আপনি একবার OPT পাবেন। অর্থাৎ দুইটা মাস্টার্স করলেও OPT একবারই পাবেন। OPT প্রথমে দেয় ১ বছরের জন্য। আপনার হাতে যদি জব থাকে, তাইলে জব অফার লেটার সহ এপ্লাই করলে OPT প্রসেসিং expedite করা যায়। আর তা না হলে, প্রসেসিং করতে তিন মাসের কাছাকাছি লেগে যায়। OPT এপ্রুভ হইলে, আপনারে একটা EAD (Employment Authorization Document) কার্ড দিবে। সেটাতে আপনার জবের স্টার্টিং ডেইট দেয়া থাকবে। ঐটা হাতে না পাইলে আপনি চাকরি শুরু করতে পারবেন না। আরেকটা খুবই ইম্পর্টান্ট বিষয় হচ্ছে, EAD কার্ডে স্টার্টিং ডেইট থেকে আপনি সর্বমোট ৯০ দিন চাকরি ছাড়া থাকতে পারবেন। সেটা চাকরি শুরু করতে অপেক্ষা বা চাকরি চলে গেলে আবার নতুন চাকরি ম্যানেজ করার জন্য দেরী করছেন, সব যোগ করে। সেজন্য চাকরি না পাইলে, অনেকই ডিফেন্স দেয় না, সব কাজ কর্ম শেষ করে ডিফেন্স ঝুলায় রেখে জব খুঁজে। জব পাইলে প্রসেসিং করতেই এক দেড় মাস লেগে যায়। এই সময়ের মধ্যে ডিফেন্স দিয়ে আপনি নতুন জায়গায় চলে যেতে পারবেন। আমি এইভাবে করছি। তবে আপনি যদি সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা ম্যাথে (STEM) পড়েন । তাইলে আপনি ১৭ মাসের এক্সটেনশন পাবেন। এই ১২ মাস বা ২৯ মাসের মধ্যে আপনি যে কোম্পানিতে জব করতেছেন সেই কোম্পানি আপনার H1B এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। তাই, ফুল টাইম জবে ঢুকার আগে, নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে, আপনার কম্পানি H1B স্পন্সর করে কিনা।

Extra: টুকিটাকি, খুচরা খাচরা, নক্তা পাবেন মাঝে মধ্যে, এই যেমন, OPT এক্সটেনশন করার জন্য আপনার কম্পানিকে E-Verified হইতে হবে। সেটা জেনে নিলে ভালো। আর কোম্পানি যদি স্পন্সর করতে রাজি থাকে, তাইলে E-Verify number থাকার কথা। তাও, জিগায় নিলেন, সাবধানের মাইর নাই।


১০. H1B আরেক কাহিনী। বছরে একবার এপ্লাই করা যায়, সেটা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে। প্রতিবছর, যারা মাস্টার্স করছে তাদের জন্য ২০,০০০ আর যারা ব্যাচেলর করছে তাদের জন্য ৬৫,০০০ কৌটা আছে। ধরেন যদি প্রথম সপ্তাহে ওরা মাস্টার্স এর জন্য ২০ হাজার এবং আন্ডারগ্রেডের জন্য ৬৫,০০০ এর বেশি এপ্লিকেশন পেয়ে যায়। তাইলে ওরা আর এপ্লিকেশন জমা নিবে না। তবে, যদি প্রথম দিনে ৮৫,০০০ এপ্লিকেশন জমা পরে যায় তারপরেও ওরা পুরা এক সপ্তাহ জমা নিবে। তার পর আর নিবে না। এই বছর প্রথম সপ্তাহতেই ১২৪,০০০ এপ্লিকেশন জমা পরছে। এবং লটারির মাধ্যমে ৮৫,০০০ সেলেক্ট করছে। তাই কোম্পানির লোকজন দেড় দুই মাস আগে প্রসেসিং শুরু করে এবং এমন ভাবে ডাকযোগে পাঠায়, যাতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের সোমবার গিয়ে এপ্লিকেশন পৌঁছায়। আপনার যত দিন OPT এর মেয়াদ আছে (এপ্রিলের ১ তারিখ পর্যন্ত) ততদিন আপনি এপ্লাই করতে পারবেন। তাই সাধারনত দুইবার এপ্লাই করতে পারবেন। এর মধ্যে আপনি লটারিতে না টিকলে, আপনারে ব্যাক টু স্কুল ফর এনাদার ডিগ্রী বা ব্যাক টু সোনার বাংলাদেশ।


১১. জব বা ইন্টার্ন খোঁজার জন্য বেস্ট জায়গা হচ্ছে আপনার ভার্সিটির ক্যারিয়ার সেন্টারের ওয়েব সাইট। ওখানে যারা জব পোস্ট করছে ওরা হায়ার করবেই। এখন সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি ছোট ভার্সিটি বা কম ফেমাস ভার্সিটিতে পড়েন তাইলে আপনার ভার্সিটির ক্যারিয়ার সেন্টারে জব কম পোস্ট করা হবে। সেই ক্ষেত্রে এক নম্বর উপায় হচ্ছে, আপনি linkedin এ jobs পেইজে খুজতে পারেন। এই ছাড়া indeed, monster, careers.stackoverflow (IT jobs), এই রকম অনেক আছে। আর অনেক জায়গায় এলাকা ভিত্তিক জব পোস্ট করার সাইট আছে। এমনকি craiglist এ জব পোস্ট করে। আর দুই নাম্বার উপায় হচ্ছে, আপনার কোনো ফ্রেন্ড যদি বড় ভার্সিটিতে পড়ে, তাইলে তাদের ক্যারিয়ার সেন্টারে কোন কোন কোম্পানি জব পোস্ট করছে, সেই নামগুলা জানতে পারলে, ওই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে এপ্লাই করলেও চান্স অনেক ভালো থাকে। ইনফ্যাক্ট আমার প্রথম চাকরিটা এই স্টাইলে পাওয়া।


১২. ডোন্ট ব্লাইন্ডলি ট্রাস্ট পিপল ইন ইন্টারন্যাশনাল অফিস, ওর সাম রান্ডম ডুড লাইক মি। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিকোন থেকে লিখছি। আপনার সিচুয়েশন বা সমস্যা, অন্যরকম হতেই পারে। অনেক সময়, অনেকেই না বুঝেই উত্তর দেয়। সেটা দেশী হোক, বিদেশী বা মার্কিনি হোক। তাই, কোন রুল বা পলিসি গুগলে সার্চ দিয়ে ICE বা USCIS এর সাইটে পড়ে নেন। না বুঝলে ওদের ফোন দিতে পারেন। একাধিক সিনিয়র বা অন্যদেশের লোকজনের সাথে ডিসকাস করেন। আর happyschools.com বা murthy.com এ ফোরাম আছে। আপনি প্রশ্ন বা চ্যাট করতে পারেন। তবে, ভারতীয় দের অনেক weird কেইস থাকে। ওগুলা পড়ে হতাশ হবার কিছু নাই। কোনো কিছু নিয়ে কনফিউশন থাকলে, ইন্টারন্যাশনাল অফিসে জিগ্যেস করেন, দরকার হইলে, আপনারে লিখিত বা ইমেইল দিতে বলেন। কারণ, উল্টা পাল্টা কিছু হইলে, সে বলবে সরি, কিন্তু আপনার গলায় পড়বে দড়ি।


এইসব কাহিনী শুনে ভয় পাবার কিচ্ছু নাই। রাম, স্যাম, যদু মধু সবাই এই সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যায়। আপনিও চলে যাইতে পারবেন। কিন্তু জায়গা মত আগুন লাগার আগেই, শুরু করতে হবে। তো আর দেরী করবেন কেন? কয়দিন পর যে ক্যারিয়ার ফেয়ার আছে, সেটা দিয়েই শুরু করেন। আপনি কি জানেন, অনেক ভার্সিটি, অন্য ভার্সিটির পোলাপানরে ক্যারিয়ার ফেয়ারে অংশগ্রহণ করতে দেয়, আপনি চাইলে সেটাও করতে পারেন। কারণ আপনার দর্কার মাত্র একখান চাকরি।


আর যদি বেশি ক্যাচাল মনে হয়,
পাসপোর্টদারি কারো গলায় ঝুলে পড়া হবে বুদ্ধিমানের পরিচয়।

মন্তব্য

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s